বিকশিত পুঁজিবাদ যখন পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করতে আরম্ভ করলো ঠিক তখন থেকেই পৃথিবীজুড়ে সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ট্রেন্ড এ বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তন এসেছে যুদ্ধনীতিতেও। এখন যুদ্ধ শুধু জলে স্থলে বা অন্তরীক্ষে সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধের নতুন কৌশল হিসেবে যুক্ত হয়েছে কোন অঞ্চলের বাজার দখলের নিয়ম। একে ফলপ্রসু করবার পথ আরও সহজ করে দিয়েছে মুক্তবাজার অর্থনীতি। আছে বিভিন্ন ব্যবসায়িক চুক্তির নানারকম ভাঁওতাবাজির কৌশল। এসবে কাজ না হলে আঙ্গুলকে বাঁকা করে ঘি উঠিয়ে নেবার ব্যবস্থাও আছে আর তা হল সামরিক আগ্রাসন। বৃহৎ পুঁজি সবসময় ক্ষুদ্র পুঁজিকে গ্রাস করে। এ কারণেই বৃহৎ পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো সবসময় ধান্দায় থাকে কীভাবে তৃতীয় বিশ্বের ক্ষুদ্র অভাগা রাষ্ট্রগুলোর শেষ পুঁজিটুকুও শুষে নেয়া যায়। এ এক নির্মম পুঁজিবাদী চক্র, যা থেকে বের হবার উপায় বের করাটা সত্যিকার অর্থেই কঠিন একটি কাজ।
বিকাশমান পুঁজিবাদ বাজারে অসংখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী সৃষ্টি করে। যেভাবেই হোক এসব প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজেদের টিকিয়ে রাখে। টিকে থাকার এ ইঁদুর দৌড়ে এমন কোন অনৈতিক পন্থা নেই যার আশ্রয় নেয়া হয় না। পুঁজিবাদ এর মূল লক্ষ্য বাজার দখল। তাই ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পুঁজিপতিদের মধ্যে চলে বাজার দখলের প্রতিযোগিতা। বাজার দখলের এ নির্মম প্রতিযোগিতায় বৃহৎ পুঁজির উদরে উদরস্থ হয় অসংখ্য ক্ষুদ্র পুঁজি। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পুঁজিপতিদের এই কামড়া কামড়ি নিজেদের মধ্যেই চলে। কিন্তু রাষ্ট্র যখন দুর্বল হয়, তখন দেশি পুঁজিপতিদের এ প্রতিযোগিতায় অনধিকার চর্চা করে বিদেশী পুঁজিপতিরা। আর এ অনধিকার চর্চায় বাধা দেয়ার নিশ্চিত অর্থ হচ্ছে শক্তিধর বিদেশী পুঁজিপতি কর্তৃক দেশি পুঁজিপতিদের অকাল মৃত্যু। এই অকাল মৃত্যু নিশ্চিত করতে সব ধরণের জালিয়াতি ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয় শক্তিধর বিজাতীয় পুঁজিপতিরা। শুরু হয় দেশি ও বিদেশী পুঁজিপতিদের মধ্যে যুদ্ধ। ধূর্ত পুঁজিপতিরা জনগণের কাছে তা তুলে ধরে স্বাধীনতা যুদ্ধ, ধর্মযুদ্ধ বা অধিকার আদায়ের সংগ্রাম হিসেবে। দেশি আকাশে যখন-ই বিদেশি পুঁজির শকুনদের ঘুরঘুর করতে দেখা যায় তখন ‘এতদিন যাবৎ নিজেদের মধ্য কামড়াকামড়ি করা’ পুঁজিপতিরা হঠাৎ ‘বিপদে পড়া একি ঘাটে জল খাওয়া গরু ছাগল বাঘ শিয়াল’ এর মত ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে। সহসা যেন তাঁদের স্বাদেশিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জেগে ওঠে। জনগণকে তাঁরা দেশ বা ধর্ম রক্ষা করবার তাগিদে প্রাণ দিতে উৎসাহিত করে, জাগিয়ে তোলে অতিরঞ্জিত দেশপ্রেম। দেশ রক্ষার সেই তাগিদে আমরা জনগণ প্রাণ ধন সম্পদ সব অকাতরে বিলিয়ে দেই । আমরা মরি, তবে বেঁচে থাকে পুঁজিপতি শকুনের দল। কারণ এ লড়াই আমাদের নয়।




* প্রতিক্রিয়া *
এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাদের এখন কী করা উচিত?
কী করতে হবে তা আমি নিজেও জানিনা। তবে জানি অতীত আর বর্তমানের লড়াইগুলো আমাদের নয়।
------------------------------------------
"মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কখনো কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি অথচ মানুষকে ভালবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও হয়তো হবে"- নিশো
------------------------------------------
" জনগণকে তাঁরা দেশ বা ধর্ম রক্ষা করবার তাগিদে প্রাণ দিতে উৎসাহিত করে, জাগিয়ে তোলে অতিরঞ্জিত দেশপ্রেম।"
দেশপ্রেম কখন অতিরঞ্জিত হয় ?
হাজার বছর ধরে, আমি পথ হাটিতেছি ......*...*.*...........***...*..
জ্বী, দেশপ্রেমও অতিরঞ্জিত হয়
------------------------------------------
"মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কখনো কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি অথচ মানুষকে ভালবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও হয়তো হবে"- নিশো
------------------------------------------
একটু সোজা বাংলায় বলবেন আপনি কি বোঝাতে চাইলেন?
__________________________________
হয়তো তুমি পাশেই আছো, তবু তোমায় ছুতে কি পাই?
অধমের অক্ষমতাকে মেনে নেন ভাই।
------------------------------------------
"মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কখনো কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি অথচ মানুষকে ভালবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও হয়তো হবে"- নিশো
------------------------------------------
ফাইনালী আপনি কি বোঝাইতে চাইলেন আমিও বুঝি নাই। তবে ইসলামী হুকুমাত কয়েম হলেও এ সমস্যা থেকে উত্তরণের কোন পথ নাই সেটা জোর গলায় বলতে পারি।
ইসলামী হুকুমাতের কথা এখানে কীভাবে আসলো তাও আমার বোধগম্যতাকে ভেদ করতে পারল না।
যে কোন সমস্যা সমাধানের পথ ধরে এগোয়। তাই উত্তরণের পথ পুরোপুরি অবরুদ্ধ তা বলা যায় না।
------------------------------------------
"মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কখনো কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি অথচ মানুষকে ভালবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও হয়তো হবে"- নিশো
------------------------------------------
এক লাইনে বললে, উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রকৃতপক্ষে সাম্রাজ্যবাদীদের একটি অস্ত্র... এই বলতে চেয়েছেন?
দয়া করে একটু বলবেন জনাব কোন বাদের পক্ষে অবস্থান করছেন?
আসেন আমরা সবাই আত্মহত্যা করে দেশটাকে বাঁচাই...
when they found my certificate-name meaningless, they gave me a very new name- that is ‘spoiled child’.
সারভাইভাল অফ দি ফিটেস্ট.
"If the presidents dont do it to their wives, they do it to their countries"-Mel Brooks
* নতুন মন্তব্য লিখুন *