গোলামি দিবসের দাবি নিয়ে(ফেব্রুয়ারিতে গোলামি দিবস চাই)

কিছুদিন আগে সিলেট থেকে ঢাকা যাচ্ছিলাম ট্রেনে করে। সিলেটের ট্রেনে AC কম্পার্টমেন্ট মানে যে কেবিন তা জানা ছিলোনা। এক হ্যাপি ফ্যামিলির সাথে বসে বসে আসতে হয়েছিল । ২বাচ্চা ,মা,বাবা,দাদা কি অত্যাচারটাই না করল।পুরা রাস্তাই তারা খেয়ে গেল। মহিলারা কোথাও গেলে সাথে করে দোকানপাট যে কেন নিয়ে যায় আল্লাহ মালুম!! বাচ্চা আর মায়ের কনভার্সেশন আমি বুঝতে পারছিলাম না। কিয়তকাল পর বুঝলাম তারা হিন্দিতে বাতচিত করছে!! ক্যাবলে আজকাল পোগো নামে একটা হিন্দি কার্টুন চ্যানেল আছে , কার্টুন নেটয়ার্ক চ্যানেলটিতেও মনে হয় এখন হিন্দিতে কনভার্ট করে কার্টুন দেখায়। বাচ্চারা কার্টুনের সাথে সাথে এই ভাষা রপ্ত করছে। এর সাথে সাথে হিন্দি/ইন্ডিয়ান কালচারও কি ঢুকে যাচ্ছেনা তাদের মাঝে? রামায়ন-মহাভারত নিয়ে এখন নিয়মিত কার্টুন হচ্ছে ইন্ডিয়াতে । সেদিন আর বেশি দূরে নেই যেদিন বাচ্চারা সুপার হিরো বলতে আর সুপারম্যান,স্পাইডারম্যান কে চিনবেনা; হুনুমান,রাম এদেরকেই সুপার হিরো জ্ঞ্যান করবে।

আমার বাসার টিভিতে যে ক্যাবল সংযোগ আছে তাতে ৬০টা চ্যানেল দেখা যায়।এই লেখাটি লেখার জন্য আজকে চ্যানেলগুলো আবার একটু ভালোভাবে অবজার্ভ করলাম। ৬৫টির মাঝে ১৫ টি বাংলা, ৩টি লোকাল চ্যানেল(যেগুলোতে সর্বদাই হিন্দি মুভি,গান,কলকাতার মুভি দেখায়), ৫টি কলকাতার বাংলা,৩টি ইংলিশ নিউজ চ্যানেল, ৭টি খেলার আর বাকিসব হিন্দি।এমনকি শিক্ষামূলক চ্যানেলগুলোও হয় বাংলা নয় হিন্দি। এর মাঝে হিন্দি কার্টুন চ্যানেলও আছে ২/৩টি। আমার বাসাতেও সন্ধ্যার পর আমার মা আর ভাবী মিলে শুরু করে দেয় জিবাংলার সিরিয়াল দেখা , সাত পাকে বাধা সিরিয়ালের রাজা মারা যাওয়াতে আমার মা আর ভাবীর দুঃখের শেষ নাই। আমার ভাতিজাটাকে সেদিন দেখি ধিনকা চিকা ধিনকা চিকা বলে চেচাচ্ছে।

হিন্দি চ্যানেল/কলকাতার বাংলা চ্যানেল দেখাতে সমস্যাটা শুধু সাংস্কৃতিক না। ইন্ডিয়া যে আমাদের চ্যানেলগুলা ইন্ডিয়াতে প্রদর্শনের অনুমতি দেয় না সেকি শুধু আমাদের মানসম্মত(!) অনুষ্ঠানের ভয়ে? মোটেও তা না। আপনি যখন কোন চ্যানেল দেখেন তখন সেখানে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনগুলোও দেখেন। ঐদিন বাবা মাকে তুলে দিতে এয়ারপোর্টে গিয়েছিলাম। ভাবী বলল চিপস এনে দিতে । ভাইয়া কড়া করে বলে দিল যেন lays এর চিপস আনি। lays আর potato chips এর মাঝে পার্থক্য কোথায় , মানে? অবশ্যই না। বিলাসদ্রব্য বা অপ্রোয়জনীয় সামগ্রীর ক্ষেত্রে মার্কেটিং পলিসি এবং প্রচারটাই মুখ্য, দ্রব্যের গুন না তারকাদের ইমেজই এইসকল দ্রব্যের চাহিদার মূল কারণ ।লাক্স মেখে কেউ ঐশ্বরিয়া রায় এর মত সুন্দরী হয় না বা কসকো মেখে কেউ অসুন্দর হয়ে যায়না। সাবানের মেকানিজম একই। পুরাটাই ফাঁকি। lays এর এড করেন সাইফ আলী খান আর potato chips এর এড করে দেশি পুলাপান।তাই আমরা যখন সাইফ/শাহরুখ/দিপিকা পাড়ুকানের এড করা সামগ্রী কিনি তখন মনে মনে নিজেদের ওদের লেভেলে কল্পনা করি। তাই আমরা ১৫টাকা দিয়ে দেশি চিপস না কিনে ৭০টাকা দিয়ে lays কিনি, কোমরে ব্যাথা হলে Move, চকলেট কিনলে center fresh ,আঠা কিনলে Fevicol মোটোরসাইকেল কিনলে Hero,bajaj কিনে সুখি হই। এইগুলা হচ্ছে ইন্ডিয়ান চ্যানেলের বাইপ্রোডাক্ট। আর সেইজন্যেই ইন্ডিয়ান সরকার আমদের চ্যানেলের অনুমোদন দেয়না। আমাদের অনেক প্রোডাক্ট ইন্ডিয়ান মার্কেটে জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই এই রেস্ট্রিকশন। এ নিয়ে আনিসুল হকের চমতকার একটা লেখা আছে, কেউ না পড়ে থাকলে পড়তে পারেন।এইখানে দেখুন

ডেইলি স্টারে এক সমীক্ষায় দেখা গেছে আমরা বছরে ২০০০ কোটি টাকা ইন্ডিয়ান চ্যানেলগুলো দেখার জন্য ব্যায় করি মানে এই টাকা আমরা ইন্ডিয়ার পকেটে পাঠাই এর সাথে যোগ করুন আমদের ক্রয়কৃত ইন্ডিয়ান দ্রব্যাদি যা আমরা ঐ চ্যানেলগুলো না দেখলে কিনতাম না। যে পরিমান টাকার ইন্ডিয়ান সামগ্রী আমরা কিনি তার বদলে যদি দেশী সামগ্রী কিনতাম তাহলে ঐ টাকা দেশে থাকত,ইন্ডাস্ট্রিগুলো আর স্ট্রং হত অর্থাৎ আমরা একে ত ইন্ডিয়াতে টাকা পাঠাচ্ছি এর সাথে সাথে দেশীয় দ্রব্যগুলোর পাছা মেরে দিচ্ছি।

কোন প্রবাসি দেশে আসা মাত্রই নিজেকে ভিনদেশি হিসাবে পরিচয় দিতে অস্থির হয়ে যায়। তাকে নিয়ে একটা আলু কিনতে গেলেও বলবে “বিদেশের আলু কত ভালো, এইডা কোন আলু হইল?” বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিচ কক্সবাজারে নিয়ে গেলেও বলবে, “এইডা কোন বিচ আর এইডা কোন সাগর সাগর ত দেখছি আম্রিকাতে,ইন্ডিয়াতে”।আমার এক বন্ধু কুয়েত থাকে , তার ইদানিং হাইপ্রেশার ধরা পরেছে। সে কথায় কথায় বলে কুয়েত গেলে প্রেশার থাকেনা,দেশে আসলে হয়!!মানে কি দেশের বাতাসে প্রেশার বেড়ে যায়? আমরাও ছাগলের মত তাদের সেই অমৃত বানী শুনি আর সহমত পোষন করি। আরেক বেটার মা যদি খুব বড়লোক আর পয়সাওয়ালা হয় তবে মনে হয় আমরা নিজের মায়ের দিকে তাকিয়ে আফসোস করি। এখন আমাদের হাল এমন হয়ে গেছে।নিজের গোলাম পরিচয়টা দিয়ে আমরা যে স্বাদ পাই তার তুলনা বিড়ল না অদ্বিতীয়।তাই আমি ফেব্রুয়ারি মাসের একটা দিনকে “গোলামি দিবস” ঘোষনা করার দাবি জানাচ্ছি। ফেব্রুয়ারিই পারফেক্ট মাস এই গোলামি দিবসের জন্য। ভাষার জন্য যারা শহীদ হয়েছেন তাদের ঋণ তখনই শোধ হবে।

সেদিন দেখলাম সংগিত শিল্পি মিলার এক সাক্ষাৎকারে তিনি অনর্গল হিন্দি বলে যাচ্ছেন, হৃদয় খানের একটা গান শুনলাম কয়েকদিন আগে যেখানে দুই তৃতিয়াংশ গানটিই হিন্দিতে গাওয়া। পরিবর্তনের হাওয়া কি টের পাচ্ছেন?

0
আপনার রেটিং: কোনোটি নয়

* প্রতিক্রিয়া *

সবই বুঝলাম রে ভাই, কিন্তু যেভাবে দাদারা আমাদের পাছা মেড়ে যাচ্ছে তার ব্যাথা কেন এখনো অনুভব করতে পারছি না একটু বলেন তো ভাই?

হাই লুব্রিকেটেড কনডম উইথ ফ্লেভার ইউজ করে ত , তাই দেখুম না দেখুম না দেখুম না

-------------------------------------------
আমি অধম তাই বলে তুমি উত্তম হইবানা কেন প্রশ্ন

আমার বাসার টিভিতে যে ক্যাবল সংযোগ আছে তাতে ৬০টা চ্যানেল দেখা যায়।এই লেখাটি লেখার জন্য আজকে চ্যানেলগুলো আবার একটু ভালোভাবে অবজার্ভ করলাম।

এ লেখাটি লেখার পর আপনি ঐ ৬০টি চ্যানেলের মধ্যে কতগুলো চ্যানেল বন্ধ করেছেন- বড় জানতে ইচ্ছে করে।

ভাই আমি ব্যাক্তিগত ভাবে যতটুকু পারি ইন্ডিয়ান সামগ্রী ব্যাবহার করিনা কেউরে কইস না কেউরে কইস না কেউরে কইস না কেউরে কইস না কেউরে কইস না কেউরে কইস না
। টিভি আমি খুব একটা দেখিও না,তাই আজকে চেক করার জন্য দেখতে হয়েছে। আমি বন্ধ করলাম কি করলাম না সেইটা খুব বড় ইস্যু না,ব্যাক্তিগত আলোচনাতে না গেলেই ভালো হয়। লইজ্জা লাগে লইজ্জা লাগে

-------------------------------------------
আমি অধম তাই বলে তুমি উত্তম হইবানা কেন প্রশ্ন

বাংলাদেশে এখন জরুরী ভিত্তিতে একটা বাংলা কার্টুন চ্যানেল চালু করা প্রয়োজন। অন্তত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মনে করে হলেও এটা করা দরকার। না হলে নিজেদের ভাষা এবং সংস্কৃতি একদিন পশ্চিমবঙ্গের মতোই বিপন্ন হবে। তার নমুনা আপনার লেখাতেই রয়েছে। এই ব্যাপারে মিডিয়াতে ব্যাপক লেখালেখি হওয়া দরকার। এই ধরনের চ্যানেলের গ্রাহক একেবারে কমও হবেনা। কারন প্রতিটি ঘরেই শিশু রয়েছেই। ভেবে দেখা দরকার।

.....................................................................

তবুও অবিরাম স্বপ্ন দেখে যাই....

এটা আসলেই দরকার... চরম ভাবে দরকার...

when they found my certificate-name meaningless, they gave me a very new name- that is ‘spoiled child’.

ভারতে হিন্দি কাটুর্ন চ্যানেলগুলোর আদলে বাংলাদেশে বাচ্চাদের জন্য একটা কার্টুন চ্যানেল করা এখন সময়ের দাবী। আর না হয় বাচ্চাদেরকে হিন্দি চ্যানেল থেকে ফেরানো অনেক কঠিন কাজ হয়ে যাবে।

সহমত।
পণ্য বর্জনের ডাক দিলেই শুধু হবে না, বিকল্প পণ্যও তৈরি করতে হবে, নয়তো অন্য কোন সংস্কৃতি ফাঁকা জায়গা দখল করে ফেলবে।

......................................................

সম-মর্যাদায় থাক সকল অস্তিত্ব।।

পণ্য বর্জনের ডাক দিলেই শুধু হবে না, বিকল্প পণ্যও তৈরি করতে হবে, নয়তো অন্য কোন সংস্কৃতি ফাঁকা জায়গা দখল করে ফেলবে।

কথাটা সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বিশ্বায়নের এই যুগে বর্জন গর্জন রব তুলে তেমন একটা কাজ হবে বলে মনে হয় না। টিকে থাকতে হলে প্রতিযোগীতা করেই টিকে থাকতে হবে। সাধারন মানুষ বুঝে উন্নত সেবা, উন্নত পন্য। যেমন আমি ব্যবহার করি গ্রামীনফোন কারন সেটার নেটওয়ার্ক ভালো। টেলিটক দেশী ফোন হলে কি হবে সেটার সেবার মান তো গ্রামীনের ধারে কাছেও নেই। সাধারন মানুষের মধ্যে এই সাইকোলোজিটাই কাজ করে। গ্রামীনফোন কিভাবে পাছা মেরে দেশের টাকা সরিয়ে নিচ্ছে সেটা নিয়ে ক’জন মাথা ঘামায়? বাজারে টিকে থাকতে হলে ভোক্তার চাহিদা মাফিক পন্য তৈরি করতে হবে। আমার সামর্থ্য আছে ৪০ টাকা কেজির চাল খাওয়ার। আমি কেনো ২০ টাকা কেজির চাল খাবো?

----------------------------------------------------------------------------------
A man who is not afraid is not aggressive, a man who has no sense of fear of any kind is really a free, a peaceful man.

বিলাসদ্রব্য বা অপ্রোয়জনীয় সামগ্রীর ক্ষেত্রে মার্কেটিং পলিসি এবং প্রচারটাই মুখ্য, দ্রব্যের গুন না তারকাদের ইমেজই এইসকল দ্রব্যের চাহিদার মূল কারণ ।লাক্স মেখে কেউ ঐশ্বরিয়া রায় এর মত সুন্দরী হয় না বা কসকো মেখে কেউ অসুন্দর হয়ে যায়না। সাবানের মেকানিজম একই। পুরাটাই ফাঁকি। lays এর এড করেন সাইফ আলী খান আর potato chips এর এড করে দেশি পুলাপান।তাই আমরা যখন সাইফ/শাহরুখ/দিপিকা পাড়ুকানের এড করা সামগ্রী কিনি তখন মনে মনে নিজেদের ওদের লেভেলে কল্পনা করি। তাই আমরা ১৫টাকা দিয়ে দেশি চিপস না কিনে ৭০টাকা দিয়ে lays কিনি, কোমরে ব্যাথা হলে Move, চকলেট কিনলে center fresh ,আঠা কিনলে Fevicol মোটোরসাইকেল কিনলে Hero,bajaj কিনে সুখি হই।

আসল জায়গায় হাত দিছেন
বুখে আয় বাবুল বুখে আয় বাবুল বুখে আয় বাবুল

সেদিন দেখলাম সংগিত শিল্পি মিলার এক সাক্ষাৎকারে তিনি অনর্গল হিন্দি বলে যাচ্ছেন, হৃদয় খানের একটা গান শুনলাম কয়েকদিন আগে যেখানে দুই তৃতিয়াংশ গানটিই হিন্দিতে গাওয়া।

শুধু সঙ্গীত শিল্পীরাই না স্কুল, কলেজ , ভার্সিটির পোলাপানেরাও এখন সবজায়গায় অনর্গল হিন্দিতে কথা বলে । ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে এই প্রজন্মের। পরবর্তী প্রজন্মকে এই ছোবল থেকে রক্ষা করার একটা মাত্র উপায় আছে তা হল ইন্ডিয়ার সব হিন্দি চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া ।

sopnobaj

থাম্বস আপ থাম্বস আপ থাম্বস আপ
সুন্দর পোষ্ট! হিন্দি চ্যানেল বর্জন নিয়ে এ ধরনের আরো লেখা আসা দরকার। আমি মনে করি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশপ্রমের ঘাটতি নেই। যদি ঘাটতি থাকত তবে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে শুধুমাত্র আবেগ দিয়ে একটি বাংলাদেশের জন্ম হত না। প্রয়োজন শুধু দেশপ্রেম বোধকে একটু চাঙ্গা করে দেওয়া। আর চাঙ্গা করতে হলে প্রয়োজন এ ধরনের লেখার।

ভারতীয় টিভি চ্যানেল বা ভারতীয় পণ্য বর্জন করার জন্য প্রয়োজন আমাদের ব্যক্তিগত মানসিকতা। বর্জনের জন্য সরকারী উদ্যেগের চেয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগ সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন। এখানে পররাষ্ট্রনীতির কারনে সরকার অনেক সময় ইচ্ছে থাকলেও কিছু করতে পারে না। তখন এসব ক্ষেত্রে জনগনকেই এগিয়ে আসতে হয়। আমরা কাছা খুলে সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির যেমন সমালোচনা করি, ঠিক একইভাবে আমাদের দায়িত্বের কথাও আমাদের চিন্তা করতে হবে। ঠিক এই মহুর্ত থেকে আমরা বিদেশী পণ্য বর্জনের চিন্তা কেন করতে পারি না। আমাদের পণ্যের মান এখন বিশ্বতুল্য। শুধু ভারতী নয়, আমাদের দেশে উৎপাদন হয় এমন যে কোন বিদেশী পণ্য বর্জন করার জন্য পারিবারিকভাবে আমরা সচেতন হলেই একটা অনেক বড় বিপ্লব করে ফেলতে পারি। আমি সেই অনেকদিন থেকেই পারিবারিকভাবে চেষ্টা করছি যে কোন বিদেশী পণ্য বর্জন করার। ভারতীয় পণ্যতো নয়ই। আমি যদি আমার পরিবারকে এভাবে তৈরী করতে পারি, তবে আপনারা কেন পারবেন না। পারিবারিকভাবে বিদেশী পন্য বর্জনে আমি প্রায় শতভাগ সফল। এখন চলছে হিন্দি চ্যানেল বর্জনের যুদ্ধ। আমার বিশ্বাস এতেও আমি সফল হব।

সেটাই দুলাল ভাই, আন্দোলনটা ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। দেশী পন্য ভালো না মন্দ সেটাই ত আমরা যাচাই করিনা। বিদেশী ছিল দেখলেই বাংগালী কাইত। এইখানে সরকারের ভুমিকাটাও জরুরী। যে প্রডাক্ট দেশেই তৈরি সেটার বিদেশী ভার্সনগুলোর উপর ট্যাক্স আরোপ, দেশি প্রোডাকটকে এনকারেজ করা এইগুলা সরকারি উদ্যোগে হতে পারে। মিডিয়ার সহযোগিতাও এইখানে জরুরী

-------------------------------------------
আমি অধম তাই বলে তুমি উত্তম হইবানা কেন প্রশ্ন

দারুন বলেছেন । থাম্বস আপ থাম্বস আপ

বিদেশী ছিল দেখলেই বাংগালী কাইত। এইখানে সরকারের ভুমিকাটাও জরুরী। যে প্রডাক্ট দেশেই তৈরি সেটার বিদেশী ভার্সনগুলোর উপর ট্যাক্স আরোপ, দেশি প্রোডাকটকে এনকারেজ করা এইগুলা সরকারি উদ্যোগে হতে পারে।

এই সংক্রান্ত যতগুলো পোস্ট এপর্যন্ত এসেছে, হিমু বাদে এই তালিকা থেকে সবাই খুব কৌশলে একটা জিনিস বাদ দিচ্ছে! সবথেকে গুরূত্বপূর্ণ পণ্যটি! আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছি না- রহস্যটা ঠিক কোথায়?! বলিউড মুভি, মিউজিক ভিডিও এবং চ্যানেল!! যতগুলো পণ্য এখানে তালিকাভুক্ত তাদের মধ্যে কটার নামই বা বাঙালি জানতো- যদিনা তাদের চ্যানেলগুলো তাদের বস্তাপচা সিনেমার গান-বাজনা নিয়ে অনুষ্ঠানের ছুতায় সগুলোর বিজ্ঞাপন নিয়ে আসতো আমাদের সামনে?! আপনার লেখাটায় পেলাম ঠিক যা খুঁজছিলাম!!! সেল্যুট!

=====================================
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার "চাই" আবার কী?! বিচার না করলে মাইরে মিস নাই...
=====================================

হুম, পণ্যের ব্যাপারটাই সবচাইতে জরুরী আর এই ব্যাপারটা আমরা একটু সচেতন হলেই কন্ট্রোল করতে পারি। চাইলেই একদিনে আমরা হিন্দি চ্যানেল অফ করতে পারবোনা, এর সাথে অনেক কিছুই জড়িত। ক্যাবল ব্যাবসা দাড়িয়েই আছে এই হিন্দি চ্যানেলের উপর। কিন্তু সাবস্টিটিউট পণ্য যেখানে আছে সেখানে একটু সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা , কিছু প্রচার আর আমাদের একটু সদিচ্ছাই পারে পরিবর্তন করে দিতে

-------------------------------------------
আমি অধম তাই বলে তুমি উত্তম হইবানা কেন প্রশ্ন

লেখাটা স্টিকি করার দাবী রেখে গ্যালাম!

=====================================
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার "চাই" আবার কী?! বিচার না করলে মাইরে মিস নাই...
=====================================

আমিও মনে করি সব কিছুর মূল হোতা হিন্দি চ্যানেলগুলো। এই জায়গায় প্রথমে হাত দেওয়া দরকার, তাহলে অন্য অনেক সমস্যার সমাধার সহজ হয়ে যাবে। ভালো লাগল আপনার লেখা।

_________________________________________
এলাম.........দেখলাম.........তবে এখনও জয় করিনি............
_________________________________________

আপনাকে ধন্যবাদ।

আমি আশাবাদী। এই সীমান্ত হত্যার মন্দের ভালো হিসেবে যদি সাধারন মানুষ মানে আমি আপনি যদি জেগে উঠি, তাইলে এস্কেরাপ মন্ত্রিরা কি বলল, আর কন বিরুধী দল কি ইস্যু কাজে লাগাল কিংবা আউল ফাউল হৃদয় খান-মিলারা কি গাইল তাতে কিছু যায় আসেনা। আমরাই পারি পরিবর্তনটা শুরু করতে। আমরাই পারব...।

পাকিদের এগেনিস্টে কিছু কইলে আমারদেশের মানুষ আমাকে বলবে আমি "ভারতের দালাল"
ভারতে বিরুদ্ধে কিছু বল্লে আমার দেশের মানুষ বলবে আমি"পাকিদালাল-রাজাকার"
আফসুস,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
আমরা কেউ "বাংলাদেশের দালাল" হইতে পারলাম না,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
আমরা যেদিন বাংলাদেশের দালালী করতে পারবো ,সেই দিন থেকেই শুরু হইবে সত্যিকারে স্বাধীনতা
নয়তো ''পাকি আর ভাদার" ঘসাঘসিতে হারিয়ে যাবে ৩০ লাখ শহিদের রক্তের দাগ।
হয়তো কোন একভোরে 'শহিদরা জেগে আমাদের মুখেথুথু ছিটাইতে চলে আসবে

পোস্টটি স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি ।

sopnobaj

ভাই পোস্ট স্টিকি হোক বাঃ না হোক কথা গুলা একবার স্টিকি হইলেই হইল কনফিউজড কনফিউজড

-------------------------------------------
আমি অধম তাই বলে তুমি উত্তম হইবানা কেন প্রশ্ন

হায়

__________________________________

হয়তো তুমি পাশেই আছো, তবু তোমায় ছুতে কি পাই?

ঘুমাইতেছে

-------------------------------------------
আমি অধম তাই বলে তুমি উত্তম হইবানা কেন প্রশ্ন

আফসুস,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
আমরা কেউ "বাংলাদেশের দালাল" হইতে পারলাম না

ভাই আপনার সাথে একমত তালিয়া

---------------------------
|রাজাকার, কবি আর দালাল বাদে
|সবার জন্য আছি
---------------------------

:অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

-------------------------------------------
আমি অধম তাই বলে তুমি উত্তম হইবানা কেন প্রশ্ন

ভাই আপনার লেখা টা face book-e শেয়ার করতে চাই যদি অনুমতি পাই?

jahan

ব্লগের লেখা শেয়ার করতে অনুমতির প্রয়োজন নেই। ব্লগেই বিভিন্ন সামাজিক সাইটে শেয়ার করার অপসন চালু রাখা হয়েছে পোষ্ট শেয়ার করার জন্য। ইচ্ছে মত শেয়ার করুন।

দুলাল ভাই ত বলেই দিলেন...ব্লগের লেখা শেয়ার করবেন , বলা লাগবেনা।। বত্রিশপাটির হাসি বত্রিশপাটির হাসি

-------------------------------------------
আমি অধম তাই বলে তুমি উত্তম হইবানা কেন প্রশ্ন

আমরা এই ব্যপারে ভারতকে অণুসরণ করতে পারি!! স্বদেশী আন্দোলন, বিদেশী পন্য বর্জন। রাগ হবেন না কেউ, এত শত্রুতারও দরকার নাই। তবে নির্ভরশীলতাটা যেন আবার চিন জাপান এর দিকেও না চলে যায়

অধম ভাই, আপনারে স্যালুট এত চমৎকার লেখার জন্য। একটা কথা হল এই হিন্দি প্রীতি কিন্তু এখনকার না। এটা আমাদের বাপ দাদাদের আমল থেকে চলে আসছে। আপনি একটু বয়স্ক লোকদের জিজ্ঞেস করে দেখুন, তারা নায়ক নায়িকা বলতে চিনে দীলিপ কুমার, অমিতাভ, মধুবালা এদের। এছাড়াও আমাদের দেশে প্রত্যেকটা গ্রামেগঞ্জে ইসলামি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মিলাদ ও দোয়া পড়ানো হয় হিন্দি বা উর্দুতে। আসলে আমাদের মধ্যে স্বদেশি জাতীয়তাবোধ কখোনই গড়ে উঠেনি। আমাদের দেশে যত আন্দোলন হয়েছে সবই রাজনৈতিক। এখন সময় হয়েছে স্বদেশি আন্দোলনের। আসুন আমরা যার যার বাসা থেকে এবং যতজনকে পারি ততজনকে সচেতন করি। শুরু করতে পারি বাসায় হিন্দি চ্যানেলগুলো বন্ধ করে। থাম্বস আপ থাম্বস আপ থাম্বস আপ থাম্বস আপ থাম্বস আপ

-------------------
সুশাসনের অপেক্ষায়...
-------------------

আমাদের দেশে প্রত্যেকটা গ্রামেগঞ্জে ইসলামি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মিলাদ ও দোয়া পড়ানো হয় হিন্দি বা উর্দুতে। আসলে আমাদের মধ্যে স্বদেশি জাতীয়তাবোধ কখোনই গড়ে উঠেনি।

এই কথাটিই খুবি ভালো বলেছেন। বাসায় ইন্ডিয়ান চ্যানেল বন্ধে এখনই যাওয়াটা আমার কাছে বাস্তব চিন্তা মনে হয়না। বিনোদনকে আপনি আমি জোড় করে আটকাতে পারবোনা। এইটা মানুষের মনের খোড়াক। তাই বিকল্প তৈরি করলে মানুষ দেখবেই। ফারুকি,রেদোয়ান রনি,ফাহমি এরা কেমন জানি টাইপড হয়ে গিয়েছে এখন,তারওপর বিজ্ঞাপন যন্ত্রনা , এইগুলা টিভি না দেখার অন্যতম কারণ। আবার নাটকের সিডির কিন্তু অনেক চাহিদা আছে। তার মানে মানুষ দেখতে চায়। তাই কাজ করলেই হবে এই সেক্টরে। আমি বিলাস দ্রব্য বর্জনকে গুরুত্ব দিচ্ছি কারণ বিলাস দ্রব্য বর্জন তেমন কষ্টের কোন কাজ না। নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না গিয়েও আমরা এই কাজ করতে পারি। দরকার প্রচার। প্রচার আর দেশপ্রেম যদি কিছুটা থাকে ( আছে আমি নিশ্চিত,তবে সাস্টেইন করেনা ,এই যা!) তাতেই হবে। এইবার কইষা ধরছি। সবাই ধরেন জলদি কর জলদি কর

-------------------------------------------
আমি অধম তাই বলে তুমি উত্তম হইবানা কেন প্রশ্ন

শুরু করতে পারি বাসায় হিন্দি চ্যানেলগুলো বন্ধ করে।

ভেংচি
বন্ধ করেন পোলায় আংকেল ডাকা সুরু করবে।

---------------------------------------
May Hasina live long.. (জ়েলে যেতে চাই না)
---------------------------------------

''আসুন ভারতীয় পন্য বর্জন করি'' বলাটা যত সহজ, করা ঠিক ততটাই কঠিন।খাদ্য সামগ্রী থেকে শুরু করে বিনোদন জগৎ পুরোটাই ভারতীয়দের দখলে।সুতরাং বর্জন করতে হলে দেখা যাবে, না থেয়েই মোটামোটি থাকতে হবে।বিনোদনের কথা না হয় বাদই দিলাম।যেটা করা দরকার সেটা হচ্ছে আমাদের পররাস্ট্রনীতি পরিবর্তিন।বিএনপি/জামাত গোষ্ঠী ক্ষমতায় এসে উলফাকে অস্ত্র দিয়ে ভারতীয়দের ভারত বিরোধিতা দেখাবে আর আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় এসে একেবারে ভারতের পায়ে লুটিয়ে পড়বে, দুটোর কোনটাই ভারতীয় আগ্রাসন রোধ করতে পারবে না। আমরা যেমন পন্য সামগ্রীর জন্য ভারতের ওপড় নির্ভরশীল, ভারতের জন্যও তেমনি বাংলাদেশ একটি বিড়াট বাজার।স্বার্থটা দ্বিপাক্ষিক, একপাক্ষিক নয়এই সত্যটাকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রয়োজন দক্ষ ও কৌশলী পররাস্ট্রনীতি। দক্ষ ও যোগ্য মানুষের সমন্বয়ে গঠিত একটি সৎ ও দেশপ্রেমিক সরকারের পক্ষেই কেবল এই ধরনের পররাস্ট্রনীতি প্রনয়ন করা সম্ভব।

shomudro

ব্যাপারটি দ্বিপাক্ষিক অবশ্যই। কিন্তু এখন যা হচ্ছে তা ত পুরাই একপাক্ষিক। আওয়ামিলিগ ত তাদের তাবেদার চরিত্র পুরাই ফুটিয়ে তুলেছে। তাদের কর্মকান্ড দেখে মনে হচ্ছে ভারতের জনগন তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে। এখন আমরা জনগন যদি একটু হলেই অসহিষ্ণতা দেখাতে পারি তাহলেই তাদের টনক নড়বে,তাদেরটা না নরলে যারা আসবে ভবিষ্যতে তাদের মনে থাকবে। দিনশেষে দেশটা আমাদের , কারো পিতা বাঃ কারো স্বামীর সম্পদ নয়।

-------------------------------------------
আমি অধম তাই বলে তুমি উত্তম হইবানা কেন প্রশ্ন

সেদিন দেখলাম সংগিত শিল্পি মিলার এক সাক্ষাৎকারে তিনি অনর্গল হিন্দি বলে যাচ্ছেন, হৃদয় খানের একটা গান শুনলাম কয়েকদিন আগে যেখানে দুই তৃতিয়াংশ গানটিই হিন্দিতে গাওয়া।

এরা আবার বেশী বেশী করে। শয়তান

শুধু সঙ্গীত শিল্পীরাই না স্কুল, কলেজ , ভার্সিটির পোলাপানেরাও এখন সবজায়গায় অনর্গল হিন্দিতে কথা বলে

এটা আমাদের সংস্কৃতির অবক্ষয়ের ধারা।

কোন প্রবাসি দেশে আসা মাত্রই নিজেকে ভিনদেশি হিসাবে পরিচয় দিতে অস্থির হয়ে যায়। তাকে নিয়ে একটা আলু কিনতে গেলেও বলবে “বিদেশের আলু কত ভালো, এইডা কোন আলু হইল?”

এ কথা বলেন, যারা বৃত্তি নিয়ে পড়তে গেছেন। কারন তারাতো পাবলিকেএর টকার পুটকি মাইরা আসছেন আর বাংলাদেশে না থাকার জন্য বলেন, দেশি আলু আমার ডোকেনা বিদেশি লাগব বাপ।

আমার এক বন্ধু কুয়েত থাকে , তার ইদানিং হাইপ্রেশার ধরা পরেছে। সে কথায় কথায় বলে কুয়েত গেলে প্রেশার থাকেনা,দেশে আসলে হয়!

প্রেশার ধরা পরবেই। কাজ নেই। কুয়েত গেলে ১৪ ঘন্টা কাজ প্রতি দিন, প্রেশার কাজ দেখে পালায়।

যাই হোক আমি ভাই, ইন্ডিয়ান প্রোডাক্ট র্বজন করতে চেষ্ঠা করি। যেখানে থাকি সেখানের প্রোডাক্ট ব্যবহার করি যদি না বাংলা প্রোডাক্ট না পাই।

---------------------------------------
May Hasina live long.. (জ়েলে যেতে চাই না)
---------------------------------------

আপনার লেখার কুশলতা আর যৌক্তিক চেতনা লেখাটিকে সুন্দর করে তুলেছে। হিন্দির আগ্রাসনে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম মাতৃভাষার প্রতি অনাগ্রহ হয়ে পড়বে। বাংলা চ্যানেলে কার্টুন ছবির চালু করা আশু প্রয়োজন। ধন্যবাদ অধম, আপনার উত্তম বক্তব্য তুলে ধরার জন্য।

**************************
জীবনের প্রত্যেক প্রবাহ অমৃত চায়।

চমৎকার লেখা।

লেইখা আর কি হবে?? কাজটা যদি ১% ও হত তাইলেও হইত। কে কি করল তা চিন্তা না করে নিজ নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করা বাংগালী কবে শিখবে?

-------------------------------------------
আমি অধম তাই বলে তুমি উত্তম হইবানা কেন প্রশ্ন

একটা খুব জরুরী বিষয় ভুলেই গেছিলাম! আজকে একজনার কথা প্রসঙ্গে মনে পড়লো! তা হচ্ছে, যেহেতু পিস টিভিও, স্টার প্লাস বা জি চ্যনেলের মতোই আরেকটি ভারতীয় চ্যানেল; সো সেটাও বর্জনের তালিকায় থাকতে হবে। সিরিয়াল বর্জনের ডামাডোলে জোকার নায়েকের পিসটিভি যদি ফাঁকতালে বেব হয়ে যায়- সেটা অন্যায় হবে!!!

=====================================
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার "চাই" আবার কী?! বিচার না করলে মাইরে মিস নাই...
=====================================

ব্যাক্তিগত উদ্যোগে চ্যানেল বর্জন কি আদৌ সম্ভব হবে?? বিনোদনকে কখনো বেড়ি পরানো যায়না। পর্নোগ্রাফির কথা উঠলে সবাই এমন ভাব করে যেন এই জিনিস খুব খারাপ মানুষ দেখে। কিন্তু বাসবতা হইল, আমরা সবাই দেখি দুই একজন ছাড়া। কারন এইটাও বিনোদন। তাই দেশপ্রেম,কোরান হাদিসের বানী দিয়া কেউকে কিছু দেখা থেকে বিরত রাখা যাবেনা। দরকার ভালো বিকল্প। দেশি মিডিয়াগুলোর মাঝে জগাখিছুরি মার্কা চ্যানেল খুলা বন্ধ করে স্পেশালাইজড হওয়াটা খুবি জরুরী। একটা চ্যানেল শুধু নাটক দেখালে নাটকের মান বাড়ুক বাঃ কমুক তা ব্যাপারনা, মানুষকে কিভাবে ঘাড় ধরে নাটক দেখাতে হবে সেই রাস্তা তারা বের করবেই। একি কথা নিউজ,গান সব কিছুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

-------------------------------------------
আমি অধম তাই বলে তুমি উত্তম হইবানা কেন প্রশ্ন

এ ব্যাপারে ব্লগেই বেশ কিছুদিন আগে বলেছিলাম আমি! আসছে পয়লা মার্চের বর্জন কর্মসূচির মিস-ইন্টারপ্রিটেশান হচ্ছে। পুরোনো কমেন্টটাই তুলে দিই এখানে-

আমি ব্যক্তিগতভাবে মধ্যবিত্তের মানসিক দাসত্বের যে বলয় তৈরী হয়েছে সেটা ভাঙার জন্য "ভারত বনধ"এর মতো কর্মসূচীতে শতভাগ সমর্থন দেই। "আবেগী" বলেই যে কোনো কর্মসূচিকে খারিজ করতে হবে তা কোনো কাজের কথা নয়।

এই য্যামন সেদিন একজন দেশী পিঁইয়াজের উদাহরণ টানছিলেন। উনি বললেন- কথা সত্য যে দেশী পিঁয়াজের দাম তুলনামূলক বেশী ভারতীয় পিঁয়াজের তুলনায়। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে- রান্নায় যে পরিমাণ দেশী পিয়াজ দিলে তাতে স্বাদ হয় তার তুলনায় অনেক বেশী পরিমাণে দিতে হয় ভারতীয় পিয়াজ। অর্থাৎ, সেদিন থেকে চিন্তা করলে কিন্তু পিয়াজের দামটা ওভাবে আকাশ পাতাল কোনো পার্থক্য নয়। পার্থক্যটা দৃষ্টি ভঙ্গিতে। আবার যেমন ধরা যাক- গরু। আমার ব্যক্তিগত গন্ডিতে যা দেখেছি- গরুর সব থেকে বড় বাজার হচ্ছে ঈদের বাজার। আর ঈদের বাজারে যে পরিমাণ ভারতীয় গরু আসে তা সাধারণ যেকোনো সময়ের থেকে অধিক। কিন্তু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন ঈদের বাজারের ভারতীয় গরুর ক্রেতা অধিকাংশই উচ্চ মধ্যবিত্ত/উচ্চবিত্ত শ্রেণীর! তারা কিন্তু দাম নিয়ে যতটা চিন্তিত তার থেকে অধিক চিন্তিত অসুস্থ একটি সামাজিক প্রতিযোগিতা নিয়ে। গাঠনিক দিক থেকে দশাসই ভারতীয় গরুর চাহিদা কিন্তু- কোনো প্রাইস কম্পিটিশান না! বরং মানসিকতার অসুস্থতা। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে বলা হয়েছে চিপসসহ আরো অনেক পণ্যের নাম যেগুলোর দেশী অল্টারনেটিভের দাম কোনো ক্রমেই ভারতীয়টির থেকে বেশি নয়- বরং অধিকাংশক্ষেত্রেই কম। এরপরে আছে মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার। ভুলে গেলে চলবে না- এগুলোর গ্রাহকেরা যতটা না সার্ভিসে আকৃষ্ট তারচে' অধিক দাসত্বে বন্দী, বরং এটাই সর্বজনবিদিত যে সার্ভিসের দিক থেকে দেশী প্রোভাইডারটি অন্ততপক্ষে ভারতীয় প্রোভাইডারটির তুলনায় অবশ্যই এগিয়ে। দেশী প্রোভাইডার টেলিটকের নাম দেশের মানুষ জানে না, এটাও অবিশ্বাস্য! তারপরও ব্যবহারের আধিক্য ভারতীয়টির অধিক- ক্যানো?! কারণ মধ্যবিত্তিয় মানসিক দাসত্ব। এখানে প্রাইস ফ্যাক্টর সামান্য- মেন্টাল ফ্যাক্টর সর্বোচ্চ! তারপর নাটক-সিনেমার কথা নাহয় বাদ-ই দিলাম- চর্বিত চর্বন হয়ে যাবে। দেশে যে সরকার ভারতীয় চ্যানেলের আমদানী বন্ধ করবে- সে সরকার পরবর্তী ২ টার্মের জন্য ক্ষমতা হারাবে! এজাতীয় রাজনৈতিক কৌতুক কিন্তু বহুল প্রচলিত!

এখন এগুলো বর্জনের যে ডাকটি (১ মার্চ, ভারত বনধ) দেয়া হয়েছে- আমার মনে হচ্ছে সেটার উদ্দেশ্য অনেকেই মিস-ইন্টারপ্রেট করছেন। এই ডাক দেয়ার অর্থ ভারতের সাথে অর্থনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণা করা নয়! বরং মধ্যবিত্তের বহুল যত্নে গড়ে ওঠা মানসিক দাসত্বটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা! এর অর্থ এমনও নয় যে- এটা করলে ভারতীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক-নৈতিক আক্রমণ হুট করে বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু এটাকে বন্ধ করতে হলে এই গুঞ্জনটুকু অন্তত ছড়িয়ে দিতেই হবে। নাহলে কোনোপ্রকার সরকারী উদ্দোগও কাজে লাগবে না। এখানে ভবিষ্যতের জন্য কাজ করবার- সুষ্ঠু কৃষিভিত্তিক দেশীয় পুঁজির বিকাশের ব্যাপারে অনেক বুদ্ধিমান/চালাক ব্যক্তিসকল যা বলেছে সেগুলোকে ঢালাওভাবে আমি নাকচ করে দিতে রাজী নই। বরং মাঠ পর্যায়ের এই জাতীয় উদ্দোগের ব্যপারে আমি উৎসাহী এবং সমর্থক। কিন্তু সেই ছুতোয় পয়লা মার্চের ভারত বনধের মত এজাতীয় আবেগী উদ্দোগকে অগুরূত্বপূর্ণ করে তোলবার চেষ্টাকে মোটেই কোনো ইতিবাচক উদ্দেশ্যপ্রসূত বলে বিশ্বাস করি না। বরং সন্দেহ প্রকাশ করি... "ন্যাজটা কি লুকোনো, বাবু?!"

=====================================
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার "চাই" আবার কী?! বিচার না করলে মাইরে মিস নাই...
=====================================

আমরা ইণ্ডিয়ান চ্যানেল কিভাবে বর্জন করবো আমাদের চ্যানেলগুলো তো ভালো কিছু দিতে পারেনা। আমরা কেবল আমাদের সংস্কৃতিকে আগে সুন্দর ভাবে সাজাই তার পরে ইণ্ডিয়ান সাংস্কৃতিকে বর্জন করা যাবে।

khajababa

* নতুন মন্তব্য লিখুন *

তথ্যটি সবাই দেখতে পাবে না। সংরক্ষিত থাকবে।