বাঙালি মোসলমানদের ওজন এতই হালকা যে, এদেরকে মাটির সাথে ধরে রাখতে না পারলে নাইট্রোজেন গ্যাসের মতন উপর দিকে উঠা শুরু করে। শুধুমাত্র উপর দিকে উঠলে একটা কথা ছিলো, উপরে উঠার সাথে সাথে দিক-বেদিক ছুটো ছুটি আরম্ভ করে এবং বিশৃংখলা সৃষ্টি করে। তাই এই জাতিটাকে মাটির সাথে আটকে রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং এর জন্য প্রয়োজন হয় উপযুক্ত ভাড়ের। মহান আল্লাহতায়ালা ভাড়ের এই সম্মানজনক দ্বায়িত্যটা দিয়েছিলেন আমার বাবাকে এবং আমার বাবা এই ভাড় হিসেবে ছিলেন একদম প্রথম সারির।
আমার বাবা সবার কাছে পিক বাবা নামে পরিচিত ছিলেন। বলা হত, তার থুথু বা পিক মানুষের যেসব অঙ্গে স্পর্শ পাবে, সে সকল অঙ্গ ডাইরেক্ট বেহেশ্তে যাবে। তিনি একটা বিশাল ধরণের সিংহাসন আকৃতির চেয়ারে বসে থাকতেন, আর দূর দূরান্তের গ্রাম গুলো থেকে আশা মোসলমানরা তাঁর পায়ের কাছে ভীড় করতো থুথুর আশায়। বাবার মুখে থুথু জমলে তারা হাত বাড়িয়ে দিত সে হাতে থুথু ফেলবার জন্য। অনেক সময় সেই থুথুর ভাগ নিয়ে মোসলমানদের মাঝে মারামারি-কাড়াকাড়ি লেগে যেত। এরপর তারা থুথু গুলো তাদের কপালে ঘষে বিত্তশালী হয়ে উঠত, কেউ কেউ মাথার চুলে ঘষে টাক মাথা চুলে পরিপূর্ন করে তুলতো, কেউ কেউ আবার দুপায়ের ফাকে ঘষে দূর্বল জায়গাটি লোহার মতন শক্ত করে তুলতো এবং সেই সাথে নিজেদের ওজন বাড়াতো। বাঙালি মোসলমানদেরকে মাটির সাথে আটকে রাখবার ব্যপারে পিক বাবার কোনই তুলনা চলে না।
যখন আমার বয়স ছিলো নয় কি দশ, তখন জ্বীনের ভয়ে রাতের বেলা পায়খানায় যেতে পারতাম না। তলপেটে বিশাল এক চাপ নিয়ে অনেক কষ্টে ঘর গুলোতে ঘুরে বেড়াতাম। আমাদের মেহেদী গাছটাতে ছিলো জ্বীনের বসত। পায়খানায় যাবার পথেই গাছটার অবস্থান। পুরো একটা জ্বীন পরিবার বাস করতো সেখানে। ছোট খাট কোন পরিবার না, রীতিমত একান্নবর্তী পরিবার। আমাদের বাড়িটা পীর বাড়ি হওয়ায় এ বাড়ির পবিত্রতা রক্ষার্থে যেখানে সেখানে চাপ খালি করা সম্ভব ছিলো না। যদিও বাড়ি ভর্তি লোকজন এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াত, কখনই একা হবার সুযোগ ছিলো না, তবু রাতের বেলা মেহেদী গাছটার দিকে তাকালে গা ছমছমানির মতন একটা ভাব জন্মাত। গাছটা দেখতেও ছিল অদ্ভুত। যারাই এই গাছটাকে দেখে তারাই বলে, এত বড় মেহেদী গাছ নাকি তারা জীবনেও দেখেনি। জ্বীন পরিবারের বসত থাকার কারণে এই গাছের মেহেদী কেউ ব্যাবহার করার অনুমোতি পেত না। তাই গাছটা এত বেশি স্বাধিনতায় বেড়ে উঠেছিলো, যেন জ্বীন পরিবারটি অনায়াশে দিন রাত্রি যাপন করতে পারে। এই জ্বীন গুলো ছিল আমার বাবার পোষা জ্বীন, মানুষের জ্বীনে ধরা রোগের চিকিৎসার জন্য এই জ্বিন গুলো ব্যবহার করতেন তিনি। আর আমি তলপেটে বিশাল এক চাপ নিয়ে ঘর গুলোতে ঘুড়ে বেড়াতাম।
এভাবে ঘরে ঘরে ঘুড়ে বেড়াবার সময় ঘরগুলো আমার কাছে একসময় বিষাদ মনে হতে থাকে, বাবার মুখ থেকে শোনা দোযখের সাথে মিল খুজে পেতাম সেগুলোতে। পায়খানাটাকে মনে হত বেহেশত। আর পায়খানার যাবার পথের জ্বীন সমেত ওই মেহেদী গাছটাকে মনে হত পুল সেরাত। আমি তল পেটের চাপ বাড়াতে থাকি আর ঘরের অন্যান্য সবার কর্ম কান্ড দেখতে থাকি। এ বাড়ির সকলের প্রধান কাজ হল পিক বাবার খেদমতে করা। সবাইকে বিভিন্ন ভাবে পিক বাবার খেদমতে ব্যস্ত থাকতে দেখি। কাউকে কাউকে আবার খাটের পায়ার সাথে দড়ি দিয়ে বাধা অবস্থায় পরে থাকতে দেখা যায়। যাদের জ্বিনে ধরে তাদেরকে সাধারণত এভাবে বেধে রাখা হয়।
প্রতিদিনই মোসলমানদের মাটির সাথে ধরে রাখবার জন্য ব্যস্ত থাকতে হতো পিক বাবাকে। আসরের ওয়াক্তের পর মোসলমানদের সামনে বসে তিনি হাদীস কোরাণের ব্যাখ্যা করতেন। অধিকাংশ সময়ই তিনি বলতেন বেহেশত আর দোযখের গল্প। মানুষ যে কারণে রূপকথার দৈত্য-দানবের গল্প শুনতে পছন্দ করে, মোসলমানরা একই করণে বেহেশ্ত-দোযখের গল্প শুনতে ভালোবাসে। বেহেশতের গল্প বলবার সময় বাবার চোখ জ্বল জ্বল করতে থাকত, কণ্ঠ দিয়ে গলগল করে মধু বেরিয়ে আসত। সেই বেহেশতি চেহারার দিকে তাকিয়ে মোসলমানরা মহিমায় গদগদ হয়ে পরত। তারা মুগ্ধ হয়ে বাবার গল্প শুনত আর পিকের আশায় নিজের দুহাত সর্বদা প্রস্তুত রাখত, সেই সঙে নিজেদেরকে মাটির সাথে ধরে রাখত।
সকাল দুপুর বিভিন্ন করণে মোসলমানরা ভীড় করত পিক বাবার দরবারে। বাবার পিক ছাড়াও, চাল পড়া পানি পড়ার বিশেষ চাহিদা ছিলো গ্রাম গুলোতে। বাবার পড়া পানি খেলে দেশের গুনী-জ্ঞ্যানী শিক্ষার্থীরা নিশ্চিন্তে পরীক্ষায় পাশ করে ফেলত, অনেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার হয়ে উঠত, আর নিজেদের ওজন বাড়াত। আর চাল পড়া খেলে চোরের রক্ত বমি শুরু হত এবং নিজে থেকে স্বীকার করে নিত চুরির কাহিনী। ফাইনাল পরীক্ষা গুলোর আগে পানি পড়ার খুব চাহিদা বেড়ে যেত, কিন্তু এই চাল পড়ার চাহিদা বছরের সবসময়ই রমরমা থাকত।
অনেকে জ্বীন ধরা রোগ নিয়ে আসত, অল্পবয়সী মেয়েদেরকেই জ্বীনরা বেশি ধরতো। এই মেয়েদেরকে চিকিৎসার জন্য পিক বাবার ঘরে রাত কাটাতে হত, সারারাত ধরে চলত চিকিৎসা। পিক বাবা জ্বীন নামানোর সাথে সাথে মোসলমান গুলোকেও মাটির কাছে নামিয়ে আনতেন অনেক্ষানি। আর আমি তল পেটে চাপ নিয়ে খানিকটা অসহায় ভঙ্গিতে ঘর গুলোতে ঘুরে বেড়াতাম।
একসময় আর চাপ সহ্য করতে না পেরে পুল সেরাতের দিকে পা বাড়াতাম। বুকের ভিতরটায় ঢোল বাজানো শুরু হত। জীবনের শেখা সমস্ত দোয়া-দুরুদ মনে মনে পড়া আরম্ভ করতাম আর এক পা এক পা করে আগাতাম। আড়চোখে দেখে নিতাম মেহেদী গাছটাকে। পায়খানায় এসে চাপটাকে দড়িয়েই ছেড়ে দিতাম। ছাড়ার সাথে সাথেই তলপেটটাকে ঘিরে তৈরী হত একটা বেহেশত। যতই ছাড়তাম ততোই সেটা বড় আকৃতি ধারণ করতে থাকে। সেটা ছড়িয়ে পরতে চাইতো সমস্ত শরীরে। দেহ এবং মন উদ্গ্রীব চিত্তে অনুভব করে যেত তৈরী হওয়া সেই বেহেশতটিকে। পরম শান্তিতে তখন আমার চোখ বুজে আসত। মেহেদী গাছে বসবাস করতে থাকা সেই জ্বীন পরিবারটিকে তখন এক নিমিষেই হাস্যকর কমেডিতে রুপান্তরিত করে ফেলত সেই বেহেশত। যতক্ষণ ছাড়তে পারতাম মনে হত, হায়, সারা জীবন যদি এভাবে ছাড়তেই পারতাম। কিন্তু সেটা সম্ভব ছিলো না। এক সময় তলপেট পুরোপুরি খালি হয়ে যেতো।
পানি বা মাটির ঢেলা সংক্রান্ত কোন ঝামেলায় যেতাম না। এই মাত্র বেহেশ্তি বাতাস লাগানো ঝড়ঝড়ে শরীর নিয়ে, মেহেদী গাছটাকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে, এক ছুটে ঘরে চলে আসতাম। বেহেশত থেকে নিয়ে আশা কিছু সুখানুভুতি দেহে ধারণ করে ঘরের কর্মকান্ড গুলো দেখে দেখে সময় কাটাতাম।
এটা ছিলো আমার প্রাথমিক বেহেশত অভিজ্ঞতা। পরবর্তী অভিজ্ঞতাটি ছিলো আরো বেশি আনন্দ দায়ক। এখন কিছুটা হলেও বুঝি, ছোট বেলায় সেটা কেন এতো বেশি আনন্দদায়ক ছিল। তবে কাহিনীটা একটু লম্বা। তাই সেটা আরেক দিনের জন্য তোলা থাক।
বেহেশ্তি জেওর
কোনো সফটওয়্যার ছাড়াই বাংলা লিখুন




* প্রতিক্রিয়া *
নষ্ট শিশু, দয়া করে ভুলে যাবার আগেই লিখে ফেলুন পরেরটা...অসাধারন হয়েছে! আপনি খুবই ভাল লেখেন!
মনে পড়ে গেল আমার পরিচিত ভাইয়ের কিছু ফতোয়ার কথা উনি নাকি জৈণপুরী সাহাবের ভাইস্তা নাকি কি ছিলেন...উনি বলতেন, বিয়ের পর নাকি তাড়াতাড়ি বাচ্চা নেয়াই উত্তম। কারন পুরুষ মানুষের প্রথমের দিকে নাকি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার আর আর্মিরা বের হয়ে যায়...৫/৭ বছর পর বাচ্চা নেয়ার সময় দেখা যায় খালি ক্লার্ক আর পিয়নই বাকি আছে...তাই বিয়ে করার পর নাকি স্পার্ম নষ্ট করা উচিত নয়।
এছাড়া রমজান মাসে নাকি হস্তমৈথুন জায়েজ আছে, কারন হস্তমৈথুন করে স্ত্রী সঙ্গম থেকে বিরত থাকা যায়...
when they found my certificate-name meaningless, they gave me a very new name- that is ‘spoiled child’.
-------------------------------------
বুকের বামদিকে সস্তার ইন্জিন , দয়া করে আঘাত দিবেন না । বিস্ফোরিত হলে উভয়পক্ষেরই ক্ষতি..........
-------------------------------------
ভাল লিখেছেন ভাই..বাকীটুকুর অপেক্ষায় থাকলাম........
-------------------------------------
বুকের বামদিকে সস্তার ইন্জিন , দয়া করে আঘাত দিবেন না । বিস্ফোরিত হলে উভয়পক্ষেরই ক্ষতি..........
-------------------------------------
ধন্যবাদ
when they found my certificate-name meaningless, they gave me a very new name- that is ‘spoiled child’.
আপনি তো বিরাট কামেল আদমী দেখা যায়!
কঠিন লিখেছেন!
পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম...
when they found my certificate-name meaningless, they gave me a very new name- that is ‘spoiled child’.
অসাধারণ !
when they found my certificate-name meaningless, they gave me a very new name- that is ‘spoiled child’.
সাক্ষাত পীরের কাছাকছি মানুষ আপনি। কথায় আছে পীর বাড়ির কুত্তাও কামেল হয়। আপনার কলম থেকে উদগ্রীত পোষ্টের বাণীগুলোও নিঃশ্চয় পুত-পবিত্র। পাঠ করে দো-জাহানের নেকী হাসিল করলাম। এই গুনাহ্গার বান্দাকে আরো নেকী হাসিল করার সুযোগ দিতে মুহ্তারামের আজ্ঞা হোক।
রাব্বুল আলামিন তার আরশে আপনাকে কবুল করে নিলে, সবাই সমস্বরে বলবেন- "লোকটি খুব ভাল ছিল"
নেকির ভাগিদার হয়ে ভালো লাগচে
when they found my certificate-name meaningless, they gave me a very new name- that is ‘spoiled child’.
আপনার প্রোফাইল পিক দেখলেই বোঝা যায় আপনি কামেল লোক।
লেখা সিরাম হইছে।
পরের পর্বের অপেক্ষায়
.....................................................................
তবুও অবিরাম স্বপ্ন দেখে যাই....
ধন্যবাদ, আতিকুল ভাই।
when they found my certificate-name meaningless, they gave me a very new name- that is ‘spoiled child’.
আর আপনার জন্য রয়েছে উত্তম জাঝা
লেখা উপাদেয় হইচে
__________________________________
হয়তো তুমি পাশেই আছো, তবু তোমায় ছুতে কি পাই?
ধন্যবাদ, নক্ষত্র। টাইপ করা বিরাট ধৈর্যের ব্যাপার। আমি খুব একটা পারি না... আপনারা যে কেমনে পারেন...
when they found my certificate-name meaningless, they gave me a very new name- that is ‘spoiled child’.
এক বিরাট ইসলামী জলছা...বক্তব্য রাখবেন একমাত্র..আলেমে হাক্কানী, কুতুবে রব্বানী,মোফাস্সেরে কোরান,বুলবুলে বাঙাল,শাহ তবক পুরি,জনাবে বেলায়েত্পুরি...বিশিষ্ট বক্তা,কুক্কিল কন্ঠি..জনাব হজরাতে আলা..নষ্ট শিশু মাদ্দাজিল্লুহুল আলী হেমায়েতপুরী ছাহেব ...[পীরজাদা..ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট ] ..ফাটায়া ফালাইছেন...তয় গোপনে জানায়েন..উনার ছেপ দিয়া পাগলামির চিকিত্সা হয়? একবার টেরাই নিতাম....
****************************************************
লাখো শহীদ ডাক দিয়েছে; সব সাথীদের খবর দে....
সারা বাংলা ঘেরাও করে;রাজাকারদের কবর দে !!!
****************************************************
এক দফা দাবি..যুদ্ধাপরাধী দের বিচার এখনি করতে হবে
ভাই, ঐটাই জ্বীনে ধরা রোগ। বাবার সাথে এক রাত থাকতে হবে আপনাকে।
when they found my certificate-name meaningless, they gave me a very new name- that is ‘spoiled child’.
.......................................
.....................................................................
তবুও অবিরাম স্বপ্ন দেখে যাই....
গোপন কথা ফাঁস কইরা দিলেন
!
চরম হইছে
মানুষ কাছে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায় !
ভাই ছেফ-পড়া কি ফ্রীজে রাহোন যায়??? :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি:
আমার এক বন্ধুর লাইগা কিছু আইন্না রাখতাম আর কি,সে সামনের বছরে দেশে আইবো.....কোওন তো যায়না আল্লাহ তার পেয়ারা বান্দারে কখন নিজের কাছে লইয়া যায়.
ভাই বহুত দিন পর লগইন করলাম... স্লেস আমার সবচাইতে প্রিয় গিটারিস্ট। যা হোক ভাই চরম লিখেছেন চালায়ে যান... বেহেস্ত দেখতে খুব ইচ্ছে করে তো তাই...
* নতুন মন্তব্য লিখুন *