ইফতি -এর ব্লগ

খোঁজ

স্মৃতির মত, কিংবা খানিক বিস্মৃতির মতো
তুষারের গুড়ো খসে একবেলার আকাশ থেকে,
তোমার পদচিহ্ন ঢাকে ফালি ফালি অবাক জোছনা।
সেই কবে অকারণ খোলা হাওয়ায় উড়েছিল তোমার চুল,
ধানের গন্ধে মাতাল কৃষকের মত মুগ্ধতায়
হাল-হারা নাবিকের অসাবধান স্তব্ধতায়
জীবনের মানে খোঁজা বিবাগীর স্বপ্ন-হারানোর চেনা বেদনায়
তীব্র শৈত্যে ছুঁয়ে গিয়েছিলে তুমি বারংবার।

শুদ্ধতার মত নিরেট নৈশব্দে,

ক্রিকেট নস্টালজিয়া

ইদানিং খেলাধুলার খবর পড়াই হয়না। না ক্রিকেট না ফুটবল। আজকে ভারত ইংল্যান্ডের খেলাতে অনেককে চিন্তেই পারছিলামনা। হঠাৎ মনে হল শৈশবের কথা। কেমন খেলা পাগল ছিলাম আমি। স্কুল জীবনে টুকিটাকি খেলাধুলা করেছি। চাচাদের কড়া নজরদারি ভেদ করে বেরোনর সাহস করিনি। ৯-৫ টা স্কুল, বাড়ি থেকে এক মেইল হেঁটে ক্লান্ত আমি বাসায় গিয়ে শক্তি পেতাম না।তার উপর আম্মুর চোখ রাঙ্গানির জন্য কি বেরনোর উপায় ছিল?

সুখের খোঁজ

খুজেছে তোমায় দুর্বার মানব
কারো হরিনী চোখে, উঁচু গ্রীবায়, নতজানু দেহে।
আদিনাথের পাহাড় এক, কখনো এভারেস্ট কিংবা পাতালপুরী
ছাপিয়ে মঙ্গল, পেরিয়ে পাখির ডানা নির্জন আটলান্তিকের শব্দে,
তোমার সৌম্য মুখে সলাজ হাসি খুজেছে মানব।

বেইলি রোডের অন্ধকার, এক ফালি করুণ হাসি
সস্তা রঙ চং উদ্দাম আহবানে, নিষিদ্ধ আনন্দে খুঁজেছে মানব।
জিঘাংসা, রক্তের লোনা স্বাদ,
খামচে ধরা প্রতিপক্ষের কোমল গালে নখের দাগে,

চা বিলাস

বিলাস দেখলেই এক পা আগে তো দুই পা পিছে দেবার স্বভাব আমার সেই ছোটবেলা থেকেই। তবু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বিলাস হয়ে গেছে, ঘটে গেছে অজান্তেই।সাধারণ মানুষের সাদামাটা জীবনে তাই চা প্রতিকাপেই যেন একটি উপলক্ষ, একটি উদযাপন।

সীজ দ্য ডে

আমেরিকান উপন্যাসগুলোর বিষয়বস্তু এবং সজ্জাগত কারণে বরাবরের মতই আমার খুব প্রিয়। পাঠ্য তালিকায় থাকার কারনে তাই এ ব্যাপারে তৃষ্ণা ও জেগেছে প্রবল। এরকম একটা বই আপনাদের সাথে শেয়ার করার তাড়না সাম্লাতে পারলাম না! খুবই চিরন্তন দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তি মানুষের স্বাভাবিক কিন্তু দুঃসহ টানাপোড়েনের অবাক করা এই গল্প Seize the Day:

জীবন যেখানে যেমন

আমার শহর

বর্ণবাদঃ তৃতীয় চোখে দেখা

বর্ণবাদ অনেক পুরনো অথচ জটিল একটি বিষয়। ছোটবেলায় ভাবতাম বর্ণবাদ মানে গায়ের রঙ এর কারনে কালোদের প্রতি সাদাদের পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি। ব্যাপারটা ওইরকম হলে তাও মেনে নেয়া যেত। কিন্তু বর্ণবাদের আক্ষরিক সংজ্ঞা ভিন্ন। অন্য জাতিসত্তার মানুষের প্রতি গায়ের রঙ, ধর্ম, সংস্কৃতি, লিঙ্গ কিংবা অন্য কোন অনুষঙ্গের কারনে তাদেরকে বড় কিংবা ছোট মনে করে আচরনের ভিন্নতাই মুলত বর্ণবাদ। অবশ্য বাস্তবিক পরিস্থিতি তো বইয়ের এই ভ

সময়ের এলিজি

তুমি যখন আকাশ জুড়ে ছিলে,

তখনো একটি উজ্জ্বল চাঁদ ক্ষণে ক্ষণে আলো দিয়ে আমাকে অকারণ ভিজিয়ে দিত

আমাদের রাজনীতি তখনো দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেনি,

সকালগুলো ভেঙ্গে যায়নি হিন্দি গানের বুকচেরা আওয়াজে কাঁসার থালার মতন।

তখনো বন্ধুরা আমায় নিয়ে ভাবতো

কারণ তখনো তুমি ছিলে কোন সাধারণ নারী হয়ে ।

এরপর দিনগুলো কেমন ফুরিয়ে গেল, রাত কেবল দীর্ঘতর হল

বিভক্তি

জাতি হিসেবে অনেকেই একতাবদ্ধ হয়ে অনেক অর্জনে নিজেদের সমৃদ্ধ করেছে। আমরাও দেখিয়েছি অনেক। মুক্তিযুদ্ধ তো কারো একার দ্বারা আসেনি, এটা তো আমাদের একসাথে গর্জে উঠার পুরস্কার। এ নিয়ে বলার কিছু নেই নতুন করে। আজকের যে বিভক্ত দুই নেত্রী, দ্বিধাবিভক্ত দুই দল তারাও অল্প সময়ের জন্য এক হয়েছিল ’৯০ এ। স্বৈরাচার পালিয়ে বেঁচেছিল, গণতন্ত্র এসেছিল আমাদের হয়ে।কিন্তু এরপর কর্ণফুলীর জল গেছে বয়ে, বিষাক্ত হয়েছে সম্পর্কের

এলাম............

(আসব আসব কিনা ভাবছিলাম।এতদিন পড়েই তৃপ্ত ছিলাম।আর পারলাম না। কবিতা নয়, কবিতা প্রচেষ্টা এটা .........)

একা

দেখ আমি কিরকমভাবে বেঁচে আছি , একা

এখানে নক্ষত্র নেই, ধানের উপর দখিনা ঢেউ নেই,

আর তোমার চুলের ঝরনার মত আস্ফালন তো কবেই ফুরিয়েছে।

ভিড় ভিড়, ধুলো ধুলো ছিল দুপুরগুলো

এরপর মৌন বিকেল, জমাট সন্ধ্যা, তোমার চোখের মত কালো নিরেট গভির রাত্রি

প্রসবের আনন্দে উদ্বেলিত মস্তিষ্ক।